মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ন
ফাঘানির এক ছবি, ইরানে আগুন–বিশ্বাসঘাতক না রেফারি?
অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় ছবি তুলে চরম বিতর্কে জড়িয়েছেন ইরানি ফুটবল রেফারি আলিরেজা ফাঘানি। ফাইনাল ম্যাচের ফটোসেশনে ট্রাম্পের পাশে ‘থাম্বস আপ’ ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে থাকা ছবিটি ইরানে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তীব্র ক্ষোভ।
গণমাধ্যম জানায়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরানে ইসরায়েল হামলা চালায়। পাল্টা হামলায় ইসরায়েল চাপে পড়লেও, যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোম্বার থেকে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বাঙ্কার বাস্টার ফেলা হয়। এতে করে জাতীয়তাবাদী মনোভাব উগ্র হয়ে ওঠে ইরানজুড়ে। ঠিক তখনই ফাঘানির এমন আচরণ সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটায়।
জানা গেছে, ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এই রেফারি ট্রাম্পের সান্নিধ্যে আসেন এবং দুইজন মিলে ‘থাম্বস আপ’ ভঙ্গিতে ছবি তোলেন। শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত সেই ফাইনালে চেলসি ৩-০ গোলে পিএসজিকে হারায়।
বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পাওয়া ফাঘানি ২০১৯ সালে ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান এবং সেখানে বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন। রেভল্যুশনারি গার্ড-ঘনিষ্ঠ ফার্স নিউজ তার টেলিগ্রামে ছবিটি শেয়ার করে কড়া সমালোচনা করেছে।
সংস্থাটি লিখেছে, “ইরানের ভূমিতে আমেরিকা-ইসরায়েল হামলার রক্ত শুকায়নি, এক হাজারেরও বেশি ইরানির মৃত্যু হয়েছে, আর সে সময় ফাঘানি একটি হাস্যোজ্জ্বল স্মারক ছবিতে আক্রমণকারীর পাশে দাঁড়ায়— এটি জাতীয় অপমান।”
পরবর্তীতে নিজের ইনস্টাগ্রামে ছবিটি পোস্ট করে ফাঘানি লিখেছেন, “আবারও ফুটবল ইতিহাসের অংশ হতে পেরে কৃতজ্ঞ।” তার এই বার্তায় ট্রাম্পকে পাশে রেখে তোলা ছবি যুক্ত করা হয়।
সরকারঘনিষ্ঠ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা এটিকে সরাসরি ‘জাতীয় বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যা দেন। এক্স হ্যান্ডেলে ‘থার্ড জেনারেশন খোমেনি রেভল্যুশন’ লিখেছে, “এই মানুষটি ইরানে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছে। অথচ সে আজ তার মাতৃভূমির হত্যাকারীর পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলে। এটি চরম লজ্জার।”